হিন্দুধর্মের স্বরূপ সন্ধান: উপসংহার (২য় অংশ)

এই প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য হিন্দুধর্মের দার্শনিক তত্ত্ব অনুসন্ধান; সামাজিক বা রাজনৈতিক হিন্দুধর্ম নিয়ে বিশদ আলোচনা এই প্রবন্ধের আওতার বাইরে। তবে উপসংহারে হিন্দুধর্মের এই দুই দিক সম্পর্কে কিছু কথার বলার প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক হিন্দত্বের সাথে যেমনি দার্শনিক হিন্দুধর্মের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই, তেমনি সামাজিক হিন্দুধর্ম থেকে দার্শনিক হিন্দধর্মকে পৃথকভাবে বিবেচনা করাও অসম্ভব নয়। মূলত বর্তমান পরিস্থিতিতে …

Continue reading হিন্দুধর্মের স্বরূপ সন্ধান: উপসংহার (২য় অংশ)

হিন্দুধর্মের স্বরূপ সন্ধানঃ উপসংহার (১ম অংশ)

(পূর্ববর্তী অষ্টম পর্ব এখানে) হিন্দুধর্মের বিশাল ও বিচিত্র বিশ্বাস-আচার-সংস্কার-দর্শন এর মধ্য থেকে এর একটি মূল সূত্রের সন্ধান লাভ করা কতটুকু আয়াসসাধ্য, তা সম্ভবত এ প্রবন্ধের পাঠকের কাছে ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া, আব্রাহামীয় ধর্মতত্ত্বের কাঠামোতে ভারতীয় ধর্মসমূহকে বুঝতে চাওয়ার প্রবণতাও হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মের যথার্থ স্বরূপ নির্ণয়ে বাধাস্বরূপ, এ কথাও আমরা বলেছি। শেষতঃ আদৌ হিন্দুধর্মকে একটি …

Continue reading হিন্দুধর্মের স্বরূপ সন্ধানঃ উপসংহার (১ম অংশ)

কবিতাঃ নিষ্কাম কর্ম

স্বচ্ছসলিলা তরঙ্গিণীর প্রান্তঘেঁষা গিরিশেখরের আড়ালে এক নির্জন স্তব্ধ প্রাগৈতিহাসিক কুটির আছে; সে কুটির হতে প্রতি ভোরে নিষ্ক্রান্ত হন এক শুদ্ধ নিষ্কাম ভগবদ-অন্তঃপ্রাণ মহর্ষি।   হাজার বছর ধরে পুঞ্জীভূত হওয়া মানুষের সব অন্ধকার তার শরীরে লেপটে থাকে ঘন সবুজ শ্যাওলা হয়ে; হাজার বছরের সব আলো অনূদিত হয়ে তার মস্তকশীর্ষে পায় উজ্বল জ্যাোতিষ্কের রূপ।   প্রতি ভোরে …

Continue reading কবিতাঃ নিষ্কাম কর্ম

হিন্দুধর্মের স্বরূপ-সন্ধানঃ অষ্টম পর্ব

(সপ্তম পর্ব এখানে) ১৫. এক হিন্দুধর্মের আধারে এক দিকে যেমনি বহুবিচিত্র পথে মানুষ জীবজগতের রহস্য নির্ণয় ও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, তেমনি অন্য দিকে সময়ে সময়ে এই বিচিত্র পথদের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টাও হিন্দু ধর্মকারদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। হিন্দুধর্মের এরূপ সমন্বয়-প্রচেষ্টার সর্বোৎকৃষ্ট ফলাফল নিঃসন্দেহে শ্রীমদভগবদগীতা, সংক্ষেপে গীতা। গীতা মূলতঃ হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতে প্রক্ষিপ্ত …

Continue reading হিন্দুধর্মের স্বরূপ-সন্ধানঃ অষ্টম পর্ব

হিন্দুধর্মের স্বরূপ-সন্ধানঃ সপ্তম পর্ব

(ষষ্ঠ পর্ব এখানে) ১৪. হিন্দু ধর্মের স্বরূপ সন্ধান করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের আলোচনা সীমাবদ্ধ থেকেছে বেদ, উপনিষদ, এবং বেদান্ত ও সাংখ্য দর্শনের মধ্যে। বর্তমানে হিন্দুর যে ধর্মীয় বিশ্বাস-আচার-আচরণ, তার মধ্যে এই দর্শন বা তত্ত্বভিত্তিক হিন্দুধর্মের সন্ধান পাওয়া দুঃসাধ্য, প্রায় অসম্ভব। এর কারণ সম্পর্কে অবশ্য আমরা পূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। গুরু-শিষ্য পরম্পরাভিত্তিক যে বিশুদ্ধ ও সূক্ষ …

Continue reading হিন্দুধর্মের স্বরূপ-সন্ধানঃ সপ্তম পর্ব

হিন্দুধর্মের স্বরূপ-সন্ধানঃ ষষ্ঠ পর্ব

(পঞ্চম পর্ব এখানে) ১১. এই প্রবন্ধে পূর্বে মন্তব্য করা হয়েছিলো, ভারতবর্ষের প্রচলিত সমস্ত ধর্ম ও দর্শন মূলতঃ আর্যদের এই ভূখন্ডে আগমনের ফলাফল। গুরু-শিষ্য পরম্পরাগত যে জ্ঞানচর্চার ইতিহাসের দিকে এ প্রবন্ধে আমাদের মূল মনোযোগ, সে ইতিহাস সম্পর্কে এই উক্তিকে যথাযথ হিসেবে মানা চলে। কিন্তু আর্যদের ভারতে আগমনের পূর্বেও এই ভূখন্ডে উন্নত কৃষিজীবী সভ্যতার অস্তিত্ব ছিলো। প্রত্নতাত্ত্বিকদের …

Continue reading হিন্দুধর্মের স্বরূপ-সন্ধানঃ ষষ্ঠ পর্ব

হিন্দুধর্মের স্বরূপ-সন্ধানঃ পঞ্চম পর্ব

(চতুর্থ পর্ব এখানে) ৯. ভারতবর্ষে জ্ঞানের সকল শাখাই ঐতিহাসিকভাবে ধর্মতত্ত্বের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলো। এর কারণ, জাগতিক এবং পারমার্থিক সবকিছুকেই ধর্মের আধারে এখানে বিবেচনা করা হোত। এর ফল হয়েছে দ্বিবিধ; একদিকে, সবকিছুকেই ধর্মের প্রেক্ষিতে চিন্তা করায় জ্ঞানের অনেক শাখাই এখানে একটা পর্যায় পর্যন্ত যাওয়ার পর নিশ্চল হয়ে থেমে গেছে, যে কারণে গণিত, জ্যোর্তিবিদ্যা, রসায়ন, বা …

Continue reading হিন্দুধর্মের স্বরূপ-সন্ধানঃ পঞ্চম পর্ব