কবিতাঃ নিষ্কাম কর্ম

স্বচ্ছসলিলা তরঙ্গিণীর প্রান্তঘেঁষা গিরিশেখরের আড়ালে

এক নির্জন স্তব্ধ প্রাগৈতিহাসিক কুটির আছে;

সে কুটির হতে প্রতি ভোরে নিষ্ক্রান্ত হন

এক শুদ্ধ নিষ্কাম ভগবদ-অন্তঃপ্রাণ মহর্ষি।

 

হাজার বছর ধরে পুঞ্জীভূত হওয়া মানুষের সব অন্ধকার

তার শরীরে লেপটে থাকে ঘন সবুজ শ্যাওলা হয়ে;

হাজার বছরের সব আলো

অনূদিত হয়ে তার মস্তকশীর্ষে পায় উজ্বল জ্যাোতিষ্কের রূপ।

 

প্রতি ভোরে নিষ্ক্রান্ত হয়ে ধীর সমাহিত পদক্ষেপে

অবগাহন করেন তিনি তরঙ্গিণীর শীতল সলিলে;

সমস্ত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে তিনি

সূর্যদেবকে করে স্মরণ, বিসর্জন দেন সকল জমানো অন্ধকার।

 

অথচ প্রতিবারের এ পূণ্যস্নান শেষ হয়ে এলেই

শ্যাওলারা আবার এসে জমাট বাঁধতে শুরু করে তার শরীরে;

আর তিনি নিয়ত পরব্রহ্মকে করে স্মরণ,

কর্মফল বিস্মৃত হয়ে করে চলেন নিজ দায়িত্ব সম্পাদন।

 

(ফেব্রুয়ারি, ২০১৮; মোহাম্মদপুর)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s